এক রাতেই গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা, লংগদুতে চাঞ্চল্য

তারিকুল তারা ( লংগদু)
তারিকুল তারা ( লংগদু) তারিকুল তারা ( লংগদু)
প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ মে ২০২৬


রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী একটি শাখা থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।

জানা যায়, মাইনীমুখ বাজারে “রাসেল এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি প্রতিষ্ঠান এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। একই মালিকের অধীনে মাইনী ও লংগদু এলাকায় দুটি এজেন্ট পয়েন্ট চালু ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ মে হঠাৎ করেই শাখাটিতে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাতারাতি গা ঢাকা দেন। পরদিন সকালে গ্রাহকরা ব্যাংক বন্ধ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে শাখার মালিক রাসেল ও ম্যানেজার আমির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের দাবি, তারা দুজন মিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এই শাখায় জমা রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে সেই অর্থের কোনো হদিস না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই অসংখ্য গ্রাহক বন্ধ শাখার সামনে ভিড় করছেন এবং নিজেদের টাকা ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের রাঙামাটি অঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এজেন্ট শাখা বন্ধ ও এজেন্ট নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা আছে এবং ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যেসব গ্রাহকের অর্থ ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা হয়েছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী সেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যাদের জমার রসিদ দেওয়া হলেও তা হিসাবে যুক্ত হয়নি, তারা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শাখাটির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার বৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এজেন্টের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং তাদের আমানত ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অর্থ সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।